প্রধান খবর

বাবার শেষ বিদায়েও কেন অনুপস্থিত মোজতবা? ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রয়াণের পর দেশজুড়ে চলছে শোকের আবহ। তবে এই শোকের আবহ ছাপিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে-বাবার জানাজায় কেন অনুপস্থিত ছেলে মোজতবা খামেনি? ইরানের ভাবি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে যাকে বিবেচনা করা হচ্ছে, তার এই জনসমক্ষে না আসা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনির এই অনুপস্থিতির পেছনে কোনো পারিবারিক বা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল নেই, বরং এর মূল কারণ অত্যন্ত সংবেদনশীল নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তেহরানের প্রধান অগ্রাধিকার।

ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান গভীরভাবে আশঙ্কা করছে যে জানাজার মতো একটি বিশাল ও আবেগঘন সমাবেশকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে ইসরায়েল। অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক বা সামরিক নেতাদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে ইসরায়েল প্রায়শই জানাজা, দাফন বা শোকযাত্রার মতো বড় জমায়েতকে বেছে নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিখুঁত হামলার ঘটনা তেহরানের এই আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের প্রকাশ্যে না আসাকে কোনোভাবেই অস্বাভাবিক বা হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

তবে এই কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকার একটি ভিন্ন পিঠও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকা নতুন নেতৃত্বের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরেই মোজতবা খামেনিকে কোনো প্রকাশ্য কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। একটি দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার মসনদে বসার আগে জনগণের সামনে তার দৃশ্যমান উপস্থিতি ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শন করা জরুরি। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে সৃষ্ট এই দীর্ঘস্থায়ী অনুপস্থিতি ইরানের সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক মহলে এক ধরনের ধোঁয়াশা এবং আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, বাবার জানাজায় মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি যেমন একদিকে তার জীবনের নিরাপত্তার জন্য জরুরি কৌশল, অন্যদিকে ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এক বড় পরীক্ষা। তেহরান কীভাবে এই নিরাপত্তা সংকট ও নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতার ভারসাম্য বজায় রাখে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *