মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং ইসলামের অন্যান্য শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বদের চিত্রায়ণ পাকিস্তানে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। অতীতে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশে মহানবী (সা.)-এর কল্পিত কার্টুন প্রকাশকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা গেছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে ধর্মীয় বিতর্ক খুব দ্রুত জনমনে ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে দিতে পারে। সে কারণেই মহররমের শোক পালনের সময় কর্তৃপক্ষ সাধারণত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করে থাকে।
এমন প্রেক্ষাপটে দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজ জানিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত বিতর্কিত ফুটেজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চ্যানেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ফুটেজে ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মানুষের প্রচলিত ধর্মীয় রীতিনীতি দেখানো হয়েছিল এবং এর উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় সংস্কৃতি তুলে ধরা, কোনো ধর্মীয় মতামতকে সমর্থন করা নয়।
পাকিস্তানের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা জানিয়েছে, জিও নিউজ সম্পাদকীয় সতর্কতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। চ্যানেলটিকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অভিযোগ কাউন্সিলে পাঠানো হয়েছে। দেশটিতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো প্রায়ই নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যবস্থা, স্থগিতাদেশ বা সম্প্রচার নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের ২০২৬ সালের বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ছিল ১৫৩তম।

