টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে নতুন করে হামলার ঘটনার জের ধরে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। গত ১৭ জুন চিরবৈরী এই দুই দেশ স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করলেও মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে হরমুজ প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে সেই শান্তি চুক্তি এখন পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।
রোববার (২৮ জুন) ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাতে সর্বশেষ এই বিমান হামলা চালানো হয়। সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের বিরুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের সরাসরি জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাঁটি ও ড্রোন সংরক্ষণাগারকে লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে এই হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুদ্ধবিমান।”
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের কাছে অবস্থিত তাহরুই গ্রামসংলগ্ন এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এর আগে গত শুক্রবারও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মূল কেন্দ্র ছিল এই এলাকাটি। তবে এবার সিরিক বন্দরের পাশাপাশি পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘কেশম দ্বীপেও’ মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে।
এদিকে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা অনুযায়ী ইরান অবিলম্বে তাদের উসকানিমূলক পদক্ষেপ বন্ধ না করলে শনিবারের এই হামলা আরও তীব্র ও বিধ্বংসী সামরিক সংঘাতের পূর্বাভাস হতে পারে।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান বারবার দুই দেশের মধ্যকার সদ্য স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করেছে। নিজের পোস্টে ট্রাম্প কঠোর ভাষায় লেখেন, “সম্ভবত তারা (ইরান) কখনোই শিক্ষা নেবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “এমন একটি সময় আসতে পারে, যখন আমাদের পক্ষে আর সংযম দেখানো সম্ভব হবে না। আমরা যে অভিযান অত্যন্ত সফলভাবে শুরু করেছি, তা সামরিকভাবে সম্পূর্ণ করতে বাধ্য হব। যদি তা ঘটে, তাহলে ইরানের আর অস্তিত্ব থাকবে না।” এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

