ইউরোপজুড়ে তীব্র দাবদাহে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে স্পেনে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার (২২ জুন) থেকে বুধবার (২৪ জুন) পর্যন্ত মাত্র তিন দিনের তীব্র তাপদাহে অন্তত ২১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অস্বাভাবিক ও মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণেই এই বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ।
দেশটির সরকারি মৃত্যুহার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার দৈনিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক গড়ের সঙ্গে তুলনা করে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এমনকি সাধারণত শীতল আবহাওয়ার জন্য পরিচিত উত্তরাঞ্চলের বাস্ক এলাকাতেও পারদ ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছায়। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ওই অঞ্চলে সব ধরনের বহিরঙ্গন খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
চলতি জুন মাসে শুধু স্পেন নয়; বরং ফ্রান্স, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ডেও ইতিহাসের রেকর্ড গড়া তাপমাত্রা আবহাওয়া অফিসগুলোর নজরে এসেছে। অনেক এলাকায় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের দীর্ঘ ইতিহাসে জুনে এত বেশি তাপমাত্রা আগে কখনও দেখা যায়নি। ফ্রান্সেও গত বুধবার (২৪ জুন) জুন মাসের গড় তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে। এর মধ্যে কাজো এলাকায় সর্বোচ্চ ৪৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি, বোর্দোতে ৪২ দশমিক ৫, নঁতে ৪২ দশমিক ২, ল্য মঁসে ৪১ দশমিক ৬ এবং রাজধানী প্যারিসে ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
তীব্র এই তাপপ্রবাহের কারণে উত্তর ফ্রান্সের পা-দ্য-কালে অঞ্চলে অন্তত তিনজনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া প্যারিসের উপকণ্ঠে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মধ্যে একটি বন্ধ গাড়ি থেকে তিন বছর বয়সী এক অবুঝ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে ইউরোপজুড়ে বিদ্যুৎ, পরিবহন, জনসেবা ও অন্যান্য জরুরি অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। দিন ও রাত-উভয় সময়ই অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।
তবে চরম সংকটের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবরও পাওয়া গেছে। জানা গেছে, আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শীতল বায়ুপ্রবাহ প্রবেশ করায় স্পেনের মূল তাপপ্রবাহের সমাপ্তি ঘটেছে। যদিও দেশটির ছয়টি অঞ্চলে এখনো তাপমাত্রার জন্য ‘হলুদ সতর্কতা’ এবং কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাবভাস বহাল রেখেছে আবহাওয়া দপ্তর।

