সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। সোমবার শেষ হওয়া এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সব তথ্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্র থেকে যাচাই করা হয়েছে।
আলোচনার শুরুটা ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। একদিকে তেহরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পুনরায় হামলার হুমকি দেন। এমন পরিস্থিতিতেই মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, দুই দেশ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি করতে একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে:
- সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে চলতি সপ্তাহজুড়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে।
- উভয় পক্ষ লেবাননে লড়াই বন্ধে সম্মত হয়েছে।
- হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
এর আগে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। সেই চুক্তির ধারাবাহিকতায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রোববার ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন, যা শেষ হয় সোমবার ভোরে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান ইরান তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ ফেরত এবং একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা শুরুর প্রতিশ্রুতি আদায় করেছে।
রয়টার্স জানায়, আলোচনার পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।
ফক্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধের চেষ্টা করলে ইরানের “কোনো অস্তিত্ব থাকবে না” এবং যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ওই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজস্ব টোল আদায় শুরু করতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায় ট্রাম্পের হুমকি প্রকাশ হওয়ার পর ইরানি প্রতিনিধি দল আলোচনার টেবিলে ফিরতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত ছিল।

