যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর হুমকিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, চুক্তির পর সেই ধারা আবারও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ২৪ ঘণ্টা আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে।
স্থানীয় সময় সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আগস্ট সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ০৭ ডলার ছিল। যদিও ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন হামলার আগের তুলনায় এখনো তেলের দাম ৭ শতাংশ বেশি। টানা কয়েকদিন ধরে দাম কমার পর বুধবার হঠাৎই ব্রেন্ট অয়েলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ট্রাম্পের মন্তব্য, ইরান “সঠিক আচরণ না করলে” তিনি আবারও বোমা হামলা চালাতে পারেন, বাজারে তাৎক্ষণিক অস্থিরতা তৈরি করেছিল।
চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। জাপানের নিকেই ২২৫ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে, যথাক্রমে ২ শতাংশ এবং ১ দশমিক ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে। তাইওয়ানের তায়েক্স সূচকও বেড়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। মার্কিন স্টক ফিউচারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ প্রায় ০ দশমিক ৮ শতাংশ এবং নাসডাক কম্পোজিট ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রস্তাবিত স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (ইসলামাবাদ এমওইউ) স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরান ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ফ্রান্সে জি৭ সামিট উপলক্ষে অবস্থানকালে প্যারিসের ভার্সাইলিস প্রাসাদে নৈশভোজের আগে ট্রাম্প এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তখন তার পাশে ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর তেহরানে নিজ দপ্তরে একই নথিতে স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইরনা সেই স্বাক্ষরের ছবি প্রকাশ করেছে।

