ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। গত ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত মোট ১৩ দিনে দেশজুড়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৩০৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বার্ষিক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি দেশের ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংগঠনের নিজস্ব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পর্যালোচিত ১৩ দিনে দেশে মোট ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন ২৮১ জন, যার মধ্যে ৩৪ জন নারী এবং ৪৮ জন শিশু রয়েছে। এসব সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮৩৭ জন যাত্রী ও চালক। একই সময়ে দেশের নৌপথে ১৩টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি কোরবানির ২৪টি গবাদিপশু (গরু) মারা গেছে। অন্যদিকে, রেলপথে ২২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন এবং আহত হয়েছেন ৯ জন।
ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যান বলছে, ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। ১৩ দিনে ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১২৪ জন নিহত হয়েছেন, যা সড়কপথে মোট নিহতের ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশ।
যানবাহনভিত্তিক নিহতের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১২৪ জন ছাড়াও ২১ জন বাসযাত্রী, ৩২ জন ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-পিকআপ ও ট্রলির আরোহী এবং ১১ জন প্রাইভেট কার ও অ্যাম্বুলেন্সের আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা ও অটোভ্যানের মতো থ্রি-হুইলারে ৪৮ জন যাত্রী এবং নছিমন-ভটভটিসহ স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের ৮ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৯৭টি দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ১১২টি আঞ্চলিক সড়কে, ৪২টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৩৭টি শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে। বাকি ৪টি দুর্ঘটনা অন্যান্য স্থানে ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতাই এই উৎসবকালীন প্রাণহানির প্রধান কারণ।

