যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। আগামী গ্রীষ্মকাল থেকে বাজারে আসছে বিশেষ সংস্করণের পাসপোর্ট, যার অভ্যন্তরীণ প্রচ্ছদে শোভা পাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশালাকার ছবি। রাজতন্ত্র থেকে মুক্তির আড়াইশ বছর পূর্তিতে একজন রাজনৈতিক নেতার ছবি পাসপোর্টে যুক্ত করার এই ঘটনা মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, এই বিশেষ পাসপোর্টে উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তি এবং কাস্টমাইজড আর্টওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছে। পাসপোর্টের ভেতরের কভারে ট্রাম্পের ছবির পাশাপাশি মার্কিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, জাতীয় পতাকা এবং সোনালি রঙে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর যুক্ত থাকবে। এটি মূলত প্রশাসনের ‘আমেরিকা ২৫০’ কর্মসূচির অংশ, যার আওতায় হোয়াইট হাউসে ইউএফসি লড়াই ও গ্র্যান্ড প্রিক্স রেসের মতো আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সমালোচকরা এই পদক্ষেপকে রাষ্ট্রীয় নথিতে ‘ব্যক্তিপূজা’র নির্লজ্জ উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগেও বিভিন্ন সরকারি ভবন ও ন্যাশনাল পার্ক পাসে ট্রাম্পের ছবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। এমনকি নতুন মুদ্রা ও ওয়াশিংটনে ২৫০ ফুট উঁচু একটি স্বর্ণালী বিজয় তোরণ ‘আর্ক দ্য ট্রাম্প’ নির্মাণের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। যা উচ্চতায় লিংকন মেমোরিয়ালকেও ছাড়িয়ে যাবে।
প্রশাসনের দাবি, এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতেই এমন বিশেষ উদ্যোগ। তবে জনমত নেতিবাচক হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্পের মিত্রদের সমর্থনে প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিরোধী পক্ষ এবং সচেতন নাগরিক সমাজ একে মার্কিন আইকনিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ব্যক্তি প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

