যুক্তরাজ্যের গ্লুস্টারশায়ারে অবস্থিত রুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ‘রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড’ বিমানঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) ভোররাতে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এবং মেট্রো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য, এই বিমানঘাঁটিটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ,ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযানে র অন্যতম কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
গ্লুস্টারশায়ার ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস (জিএফআরএস) জানিয়েছে, রবিবার ভোররাতে বিমানঘাঁটির ভেতর একটি বাণিজ্যিক ভবনে আগুন লাগে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট মোতায়েন করা হয়। আগুনের তীব্রতায় প্রচুর ধোঁয়া সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয় জরুরি সেবা সংস্থা।
প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) কোনো যুদ্ধবিমানের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এই ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বিমান বাহিনীর সরঞ্জাম বা বিমানে কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে মার্কিন বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বোমারু বিমানগুলো এই ঘাঁটি থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।
আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ইউরোপের একমাত্র রয়্যাল এয়ার ফোর্স বেস যা বি-৫২ বোমারু বিমানের ভারী অভিযানের জন্য উপযুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র এই ঘাঁটিটিকে তাদের আক্রমণের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। সামরিক স্থাপনায় এই অগ্নিকাণ্ড কোনো নাশকতা কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আগুন বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিমানঘাঁটির ভেতরে তল্লাশি ও ডাম্পিংয়ের কাজ অব্যাহত রয়েছে। বিমানঘাঁটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক টিম কাজ করছে।

