ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৯ এপ্রিল দিন ঠিক করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ দিন ধার্য করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা আদালতে কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য আদালত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন।
গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের একই আদালতে ডিবির দেয়া অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি দাখিল করেন। আদালত জাবেরের নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি পুনরায় তদন্তের আদেশ দেন।
এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতিকারীরা শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি)/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদন অনুযায়ী ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১২ ডিসেম্বর দুপুরে মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে শরিফ ওসমান হাদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে থাকা আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী ওসমান হাদিকে পেছন থেকে অনুসরণ করে এবং চলন্ত অবস্থায় গুলি করে পালিয়ে যায়।
আহত শরিফ ওসমান হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার এম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

