কক্সবাজার থেকে গভীর রাতে বাসে কুমিল্লায় ফিরে বাসায় ফেরার জন্য অটোরিকশায় উঠেছিল ১৫ বছরের কিশোরী জান্নাতুল তাজমিন। তবে বাড়ি ফেরা আর হয়নি তার। নির্জন পথে অটোরিকশা ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর লালমাইয়ের একটি ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয় এই স্কুলছাত্রীর নিথর দেহ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সূত্র ধরে চালক সুমনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পুলিশ ও তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, যশোরের মেয়ে তাজমিন তার পরিবারের সাথে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় থাকত। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর সাথে বের হয়ে সে কক্সবাজার যায়। গত ৭ অক্টোবর রাতে বাসে কুমিল্লায় নেমে রাত সাড়ে ১০টার দিকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিতে ওঠে। তবে গভীর রাতে নির্জন রাস্তার সুযোগ নিয়ে চালক সুমন গাড়িটি উল্টো দিকে লালমাইয়ের দিকে চালানো শুরু করে। বিপদ বুঝতে পেরে তাজমিন রাত ২টা ৫৮ মিনিটে তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন ও বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে বার্তা পাঠায়। দুর্ভাগ্যবশত, গভীর রাতে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় সেই বার্তা দেখতে পাননি।
পরদিন সকালে লালমাইয়ের জগতপুর গ্রামের ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল এবং আশপাশের ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, নিজেকে রক্ষা করতে প্রাণপণে চেষ্টা করেছিল কিশোরীটি। ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া অটোরিকশা জব্দ করে তার মালিকের সন্ধান পায় পুলিশ। মালিকের তথ্যসূত্রে জানা যায়, অটোরিকশাটি ভাড়ায় চালাতেন সুমন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম থেকে চালক সুমনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্যে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং এর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কললিস্ট বিশ্লেষণ করে একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার আলামত পাওয়া গেছে। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে তাজমিনের পরিবারে এখন শোকের মাতম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার মা মেয়ের বান্ধবীর প্ররোচনা ও নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে আকুল আবেদন জানিয়েছেন। এই ঘটনায় তাজমিনের বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

