ইরানকে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া

পশ্চিমের অর্থনৈতিক চাপ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে কৌশলগত মিত্র ইরানকে এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে রাশিয়া। তেহরান আনুষ্ঠানিক ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রদান করা মাত্রই এই বিপুল অর্থ স্থানান্তর করা হবে। মঙ্গলবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণের অর্থ পরিশোধের সার্বিক প্রক্রিয়া দুই দেশের সম্মতিক্রমে চূড়ান্ত হলেও প্রাপ্ত অর্থ ঠিক কীভাবে ব্যয় করা হবে—তা নিয়ে ইরান সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। মূলত এই অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের অভাবেই অর্থ হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি আটকে রয়েছে।

চলতি বছরের জুনে প্রথম এই ঋণের রূপরেখা জনসম্মুখে আসে। এটি মূলত রাশিয়া কর্তৃক ইরানকে দেওয়া পরিকল্পিত মোট ২০ বিলিয়ন ডলারের রুবলভিত্তিক বৃহৎ ঋণ প্যাকেজের প্রথম কিস্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ঋণের বার্ষিক সুদের হার ধরা হয়েছে ৬ শতাংশ।

অর্থের ব্যবহার নিয়ে ইরানের সরকারি দপ্তরের মধ্যে তৈরি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মত। দেশটির পরিকল্পনা ও বাজেট সংস্থা চাইছে ঋণের এই অর্থ দিয়ে জরুরি যানবাহন আমদানি করতে। অন্যদিকে, সংকটে থাকা তেল মন্ত্রণালয় তেলশিল্পের আধুনিকায়ন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার পক্ষে মতামত দিয়েছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি মন্ত্রণালয় চাইছে এই অর্থ দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় মৌলিক খাদ্যপণ্য আমদানি করা হোক। অর্থ ব্যবহারের খাত এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় রাশিয়াকে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং বিবরণ জমা দিতে পারেনি ইরান সরকার।

মার্কিন প্রশাসনের কঠোর বিধিনিষেধ, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং তেল রপ্তানিতে চরম অচলাবস্থার মাঝেই একে অপরের পাশে দাঁড়াচ্ছে মস্কো ও তেহরান। দুই দেশই এখন পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নিজ নিজ স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে রুবলভিত্তিক যৌথ বাণিজ্য বোর্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে ইরান ও রাশিয়ার এই ক্রমবর্ধমান আর্থিক ও ব্যাংকিং সহযোগিতায় রাশ টেনে ধরতে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করছে ওয়াশিংটন। রাশিয়ার অন্যতম শীর্ষ ভিটিবি ব্যাংকের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পেছনেও অবরুদ্ধ ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও রাশিয়া থেকে আসা এই অর্থ অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে থাকা তেহরানের জন্য কতটা সহায়ক হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *