সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক এয়ারলাইন্স ‘ফ্লাইদুবাই’-এর একটি ফ্লাইটে ককপিটের ভেতরে চরম গোলযোগ ও ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। উড়োজাহাজটির সহ-পাইলট (কো-পাইলট) মূল পাইলটের ওপর জরুরি ব্যবহারের কুঠার (ক্র্যাশ অ্যাক্স) নিয়ে চড়াও হন এবং বিমানটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাবলিক প্রসিকিউটর জেনারেল সরাসরি এই চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ওয়াম’-এর মাধ্যমে আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল-শামসি জানান, গত বুধবারে সংঘটিত এফজেড১০৭৩ (FZ1073) ফ্লাইটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ককপিটে থাকা জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ ব্যবহার করে সহ-পাইলট মূল পাইলটকে আঘাত করা এবং উড়োজাহাজটিকে মারাত্মক দুর্ঘটনার মুখে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত করেছিলেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ হলো মূলত যেকোনো জরুরি অবস্থায় উড়োজাহাজের ভেতরের অংশ বা ককপিটের প্যানেল কেটে বের হওয়ার পথ তৈরি করার উদ্দেশ্যে রক্ষিত একটি বিশেষ কুঠার সদৃশ সরঞ্জাম। সেই সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম দিয়েই উক্ত চালক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানোর উগ্র চেষ্টা চালান, যা সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে নস্যাৎ করা সম্ভব হয়।
পাবলিক প্রসিকিউশন থেকে আরো জানানো হয়েছে, উক্ত ঘটনার পেছনে সুনির্দিষ্ট কী উদ্দেশ্যে ছিল, উড়োজাহাজের ভেতরের প্রযুক্তিগত প্রমাণাদিসহ ডিজিটাল বার্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে। এর সাথে কোনো আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর যোগসূত্র আছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রক্রিয়া এবং আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়া মাত্রই বিস্তারিত ফলাফল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

