বাংলাদেশে বিয়ের ন্যূনতম বয়স পুনর্নির্ধারণ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৬ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন কাজী বা মুসলিম নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রাররা। বয়স কমানোর এই প্রধান দাবির পাশাপাশি আট দফা দাবি আদায়ে পঞ্চগড়ে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনের নেতারা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ‘মুসলিম নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার সমিতি’ পঞ্চগড় জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বর্তমান আইনি কাঠামোর সমালোচনা করে বলেন, বর্তমানে দেশে বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলেদের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর এবং মেয়েদের ১৮ বছর নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু বিশ্বের বহু দেশে ছেলেদের জন্য ১৮ এবং মেয়েদের জন্য ১৬ বছর বয়সেই বিয়ের আইনি বৈধতা রয়েছে। স্থানীয় সামাজিক বাস্তবতা, জলবায়ু ও শারীরিক পরিপক্কতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশেও বিয়ের এই নতুন বয়সসীমা পুনর্নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।
বক্তারা সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে আরও বলেন, বিয়ের ন্যূনতম বয়স বেশি নির্ধারিত থাকার কারণে বর্তমানে উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরা বিভিন্ন অনৈতিক ও অসামাজিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে একদিকে যেমন পারিবারিক ও সামাজিক নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে বাস্তবে বাল্যবিয়ের প্রবণতা ও অবৈধ সম্পর্কের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
মানববন্ধন থেকে উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল-মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬ ও ছেলেদের ১৮ করা, কাজী বা নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অধিক্ষেত্র আগের মতো বহাল রাখা, নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অবসরের বয়সসীমা ৬৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭৫ বছর করা এবং কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রারের অবর্তমানে তাঁর সন্তানকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগের ব্যবস্থা করা।
এছাড়া নিকাহ রেজিস্ট্রারদের ওপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অযাচিত হয়রানি বন্ধ, নিয়োগে ডিও লেটার প্রথা চিরতরে বাতিল, নিবন্ধনের ফি বৃদ্ধি করা এবং বিবাহ ও তালাককাজে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা সম্পাদনের আইনবহির্ভূত প্রথা বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়।
সমিতির পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি এ আর এম শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. হাবিবুর রহমান, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি আরাফাত ইদ্রিস, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, বোদা উপজেলার সভাপতি মাশরুল আলম রাজু, আটোয়ারীর সভাপতি আব্দুল মোতালেব, দেবীগঞ্জের সভাপতি শামসুল আলম ও তেঁতুলিয়ার সভাপতি আজমত আলীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রাররা।

