প্রধান খবর

অষ্টগ্রামে বিএনপির ভেতরে হামলা ও শোকজ বিতর্ক : ত্যাগী নেতাকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের ওপর হামলা, দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং পরবর্তীতে তাকে শোকজ নোটিশ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একাধিক স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি এখন এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল প্রায় ১১টার দিকে পূর্ব অষ্টগ্রাম বিএনপি কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একটি অংশের সদস্যরা একত্রিত হয়ে সৈয়দ সাঈদ আহমেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একই সময়ে দলীয় কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এছাড়া আখড়া বাজারে লুটপাটেরও অভিযোগ উঠেছে। হামলার ঘটনার পর তাকে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে, যা নিয়ে দলের তৃণমূল পর্যায়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অষ্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের ছেলে রেজওয়ান আহমেদ তৌফিকের শক্তিশালী প্রভাব ছিল। ওই সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা নানা প্রতিকূলতা, মামলা ও হামলার মুখোমুখি হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও সৈয়দ সাঈদ আহমেদ দলীয় অবস্থান থেকে সরে যাননি এবং বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে তার সমর্থকদের দাবি।

নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, বর্তমানে কিছু সুবিধাবাদী ও তথাকথিত ‘হাইব্রিড’ নেতা বিএনপির ভেতরে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, অতীতে রাজনৈতিক সুবিধা ভোগ করা এসব ব্যক্তি এখন বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে দলের ত্যাগী নেতাদের কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন। সৈয়দ সাঈদ আহমেদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে তারা সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ হিসেবে দেখছেন।

এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচালিত অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পারিবারিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব সম্পর্কের সূত্র ধরে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীকে বিএনপির রাজনীতিতে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হামলার ঘটনায় বিএনপির কয়েকজন নেতা এবং আওয়ামী লীগের একজন জনপ্রতিনিধির নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এছাড়া সৈয়দ সাঈদ আহমেদকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক নিপীড়ন, মামলা ও হামলার মুখেও যারা দলকে ধরে রেখেছেন, তাদের বিরুদ্ধে এমন আচরণ দলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ঐক্য বজায় রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *