প্রধান খবর

মাঠের বাইরেও হিট ‘ব্র্যান্ড বেকহ্যাম’: ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে আয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা

ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন এক দশকেরও বেশি সময় আগে। তবে মাঠের তারকাখ্যাতিকে কীভাবে বিশাল এক বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যে রূপ দিতে হয়, তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলছেন ডেভিড বেকহ্যাম। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে বিশ্বজুড়ে চলা বাণিজ্যিক উন্মাদনাকে কাজে লাগিয়ে রেকর্ড পরিমাণ ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেছেন ইংল্যান্ড ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক এই কিংবদন্তি।

এই বিশ্বকাপের বছরে তাঁর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিতরণ করা মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করলে দাঁড়ায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা দ্য টেলিগ্রাফ-এর সংগৃহীত তথ্যের বরাতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম গোলডটকম ও ফরাসি ক্রীড়া বিষয়ক পোর্টাল ফুটমেরকাতোর এই খবর প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, বেকহ্যামের মালিকানাধীন ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী ও খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমেই এই অসামান্য মুনাফা অর্জন করেছে।

উত্তর আমেরিকা জুড়ে বিশ্বযজ্ঞ চলায় বিশ্বকাপের শীর্ষ স্পন্সর ও প্রচারণায় বেকহ্যামের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এ সময় বিশ্বখ্যাত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ম্যাকডোনাল্ডস, টেলিকম জায়ান্ট ভেরাইজন, বৈশ্বিক পানীয় প্রস্তুতকারক পেপসি এবং চিপস প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ড লে’জ-এর বিজ্ঞাপন ও বিপণন কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত ছিলেন বেকহ্যাম। তাঁর উপস্থিতি ও প্রচারণা কোম্পানিগুলোর ব্র্যান্ডিংয়ে যেমন গতি এনেছে, তেমনি বেকহ্যামের ব্যবসায়েও এনে দিয়েছে বিশাল অর্থপ্রবাহ।

কেবল ব্যক্তিগত লভ্যাংশ বা মুনাফাই নয়, বিশ্বকাপের বছরে বেকহ্যামের মালিকানাধীন সামগ্রিক ব্যবসায়ের মূল আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তথ্যসূত্রে দেখা যায়, আগের বছরের তুলনায় তাঁর ব্র্যান্ডের বার্ষিক আয় প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ডে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার বাজারমূল্য প্রায় ১,১০০ কোটি টাকা।

খেলোয়াড়ি জীবনে ইংল্যান্ড জাতীয় দল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজির মতো পরাশক্তি ক্লাবের হয়ে যে খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা বেকহ্যাম অর্জন করেছিলেন, পেশাদার খেলা ছাড়ার পরেও সেটিকে তিনি অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি ঘটলেও বৈশ্বিক ব্র্যান্ড বাজারে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও ‘ব্র্যান্ড বেকহ্যাম’ যে এখনও সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি, এই রেকর্ড উপার্জন তারই প্রমাণ দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *