কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে কোনো আসামির পক্ষে আদালতে লড়বেন না স্থানীয় আইনজীবীরা। মানবিক বিবেচনা এবং নির্মম এ ঘটনার বিরুদ্ধে সংহতি জানিয়ে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে প্রশাসন ও আইনজীবী সমিতির নেতাদের মধ্যে আয়োজিত এক বিশেষ যৌথ আলোচনাসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সভায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সহিদ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুল হক খন্দকার এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন। এ সময় জেলা পিপি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকুসহ অন্যান্য আইনি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন এবং শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থেকে অপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করা, আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো ফাঁকফোকর না রাখা এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।
আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সহিদ উল্লাহ বলেন, “একজন শিশু ও শিক্ষকের সন্তানের ওপর এমন নির্মমতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের সমিতির কোনো আইনজীবী এই হত্যা মামলায় আসামিপক্ষে দাঁড়াবেন না।”
আইনজীবীরা আসামিদের পক্ষে না দাঁড়ালে বিচারে কোনো জটিলতা বা ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ব্যাখ্যা করেন, “আমাদের সমিতির কোনো সদস্য লড়বেন না ঠিকই, তবে আইনি নিয়ম অনুযায়ী আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকলে রাষ্ট্র নিজে থেকে তাদের জন্য আইনজীবী নিয়োগ দেবে। কারণ একতরফা বিচারে আইনি ত্রুটি থেকে যেতে পারে, যা আমরা চাই না। আমরা চাই রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া মেনেই আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত হোক এবং ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত হোক।”
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি এখন সর্বস্তরের মানুষের।

