যুদ্ধবিরতির জন্য ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশ কিছু শর্ত পেশ করলেও, সে বিষয়ে সাড়া না দিয়ে সরাসরি দেশটিকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার তীব্র হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সম্প্রচারমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় (ডিসাইডিং মোডে) আছি।” আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটতে চলেছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে, ইরানকে মোকাবিলা করতে ওয়াশিংটনের সামনে বর্তমানে তিনটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ইরানকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া; দ্বিতীয়ত, কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে ধ্বংস করা; এবং তৃতীয়ত, আলোচনার মাধ্যমে একটি কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করা। এর পরপরই হুঙ্কার ছেড়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা কখন এবং কীভাবে তাদের দেশটাকে উড়িয়ে দেব, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তাদের উচিত অবিলম্বে নিজেদের আচরণ শুধরে নেওয়া।”
এদিকে, ট্রাম্পের কঠোর বার্তার সাথে সুর মিলিয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসনেট ঘোষণা দিয়েছেন যে, বৈশ্বিক আকাশসীমায় ইরানি এয়ারলাইনসের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ২৭টি ইরানি বিমান সংস্থাকে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করে।
অন্যদিকে, নতুন করে মার্কিন আগ্রাসনের আশঙ্কার মধ্যেই দোহার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে শর্ত পাঠিয়েছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসিন রেজাই জানান, আলোচনায় বসার জন্য তেহরানের মূল দাবি তিনটি। সেগুলো হলো—সবকটি সামরিক ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, বিদেশে আটকে রাখা ইরানি অর্থ ফেরত প্রদান এবং নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা।
যদিও ট্রাম্প জানান যে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়েনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসতে প্রস্তুত, তবে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মার্কিন গোয়েন্দা কেন্দ্রগুলো তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যেই রয়েছে বলে সতর্ক বার্তা জারি করেছে বাহিনীর মুখপাত্র।

