রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ফের শঙ্কা তৈরি করে গভীর রাতে শাহবাগ এলাকার তিন নেতার মাজারের পাশে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে এই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহবাগ থানাধীন তিন নেতার মাজারসংলগ্ন মেট্রোরেলের ৫২৭ নম্বর পিলারের নিচে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা ককটেলটি ফুটিয়ে পালিয়ে যায়। রাত সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১২টার মধ্যে এই বিস্ফোরণ ঘটে। আচমকা এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও সৌভাগ্যবশত এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তবে কেবল শাহবাগই নয়, শনিবার রাতে রাজধানীর একাধিক স্থানে প্রায় একই সময়ে ককটেল ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে রাত পৌনে ১১টার দিকে পল্টনে সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন প্রধান সড়কে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এছাড়া রাত সাড়ে ১০টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মেও একটি হাতবোমা বিস্ফোরণের তথ্য নিশ্চিত করেছে রেলওয়ে পুলিশ। এসব ঘটনাতেও কেউ হতাহত হননি।
এর আগে সন্ধ্যার পর যাত্রাবাড়ী থানার বিপরীত পাশে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি রাজধানীর মিরপুর ও বাড্ডা এলাকায় একাধিক যানবাহনে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। একই রাতে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা পুরো নগরজুড়ে নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে।
চলতি এসব ধারাবাহিক নাশকতামূলক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে। ডিএমপি জানায়, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের মোটরসাইকেলসহ ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কোন স্থানের ঘটনার প্রেক্ষাপটে কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করা হয়েছে।

