প্রধান খবর

‘তারে পাইলে হাজার কষ্টে শান্তি পাইতাম’: চিরকুট লিখে ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

“মা, তুমি আমারে মাফ কইরা দিও। আমি তোমার কথা রাখতে পারলাম না। আমি চাইলে পালিয়ে যেতে পারতাম, কিন্তু তোমার মাথা ধরে তোওবা কাটছিলাম। তারে পাইলে হাজারো দুঃখ-কষ্টে থাকলেও আমি শান্তি পাইতাম, কারণ তারে যে আমি ভালোবাসি”—হৃদয়বিদারক এমন একটি দীর্ঘ চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে এক চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী (১৪)।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের আন্ধারুপাড়া গ্রামে নানার বাড়িতে ঘটে এ মর্মান্তিক ঘটনা। নিহত শিশুটি একই গ্রামের ব্র্যাক পরিচালিত বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঝোলা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে এবং পাশ থেকে চিরকুটটি জব্দ করে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত শিক্ষার্থীর বাবা বেশ কিছু বছর আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর থেকে তিন কন্যাসন্তানকে নিয়ে তার মা বাবার বাড়িতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। তিন বোনের মধ্যে সে ছিল দ্বিতীয়। সম্প্রতি তার জন্য বিয়ের বেশ কয়েকটি সম্বন্ধ আসছিল, তবে তার কম বয়সের কারণে ও ব্যক্তিগত অমতে পরিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের দাবি, প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, যা নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই পরিবারের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল।

চিরকুটে পরিবারের প্রতি আকুতি জানিয়ে সে আরও লিখেছে, “তারে ছাড়া যদি তোমরা অন্য কারও সাথে বিয়ে দিতা, সত্যি কইতাছি মরার মতো বাঁচতাম। এখানে কারও কোনো দোষ নাই। তাও যদি তোমরা তারে অপরাধী বানাও, তাইলে আমি মইরা গেলেও শান্তি পামু না।” চিঠির একদম শেষে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সে নিজেকে মায়ের ‘কপাল পোড়া’ সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষমার আর্জি জানায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। নিহত শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহের পাশ থেকে একটি স্পর্শকাতর চিরকুট পাওয়া গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলাসহ আইনগত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *