প্রযুক্তি ও তরুণ ভাবনার এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়ে বিপুল পরিমাণ পানির অপচয় রোধে নজির গড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ১৩ বছর বয়সী কিশোরী নেহা ব্লান্ট। তার তৈরি ‘ওয়াটার সেভার’ (Water Saver) নামের একটি অভিনব ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার পরিবারকে পানির অপচয় কমাতে এবং নিয়মিত সাশ্রয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করছে।
নিজের উদ্ভাবিত অ্যাপ এবং ‘ওয়াটার সেভার্স’ প্রচারণার মাধ্যমে নেহা এ পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি মানুষের কাছে পানি সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘অ্যাকশন ফর নেচার’-এর তথ্যমতে, নেহার এই উদ্যোগে সাড়া দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ১ লাখ মানুষ দৈনন্দিন জীবনে পানির অপচয় বন্ধে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন। এর ফলে এখন পর্যন্ত আনুমানিক ২ কোটি গ্যালন পানি সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় অনন্য এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের ‘আন্তর্জাতিক ইয়ং ইকো-হিরো অ্যাওয়ার্ডে’ প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও সামাজিক এনগেজমেন্ট বিভাগে ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে নেহা।
উদ্যোগটির পেছনের গল্পটি তুলে ধরে নেহা জানায়, স্থানীয় মিউনিসিপ্যাল কর্তৃপক্ষের এক সতর্কবার্তায় সে প্রথম দেখতে পায়-কেবলমাত্র একটি ফুটো বা লিক হওয়া পানির কল থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার গ্যালন পানি অপচয় হতে পারে। এই একটি তথ্যই তাকে প্রযুক্তির সাহায্যে দৈনন্দিন পানি ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট হিসাব রাখার অ্যাপ তৈরিতে অনুপ্রাণিত করে। টানা সাত মাসের পরিশ্রম ও কোডিংয়ের পর মাইএসকিউএল (MySQL) কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে সে এই ওয়েব অ্যাপটি দাঁড় করায়। উল্লেখ্য, অদম্য মেধার অধিকারী নেহা মাত্র তিন বছর বয়স থেকে কোডিং শেখা শুরু করে এবং বর্তমানে ১৩ বছর বয়সেই ২২টি কলেজ ক্রেডিট অর্জন করেছে।
অ্যাপ উদ্ভাবনের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত কিশোরীদের জন্য বিনামূল্যে ২০০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কোডিং ক্লাস পরিচালনা করেছে নেহা। বর্তমানে সে স্থানীয় পৌরসভার সঙ্গে যৌথভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ইন্টারঅ্যাকটিভ চার্টসংবলিত ‘ওয়াটার সেভার ২.০’ সংস্করণের কাজ করছে। ভবিষ্যতে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও সাইবার নিরাপত্তায় উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষায় অবদান রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এই তরুণ উদ্ভাবক।

