প্রধান খবর

নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯১

হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট প্রলয়ঙ্করি বন্যা ও পাহাড়ি ভূমিধসে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্ত এলাকা। সাম্প্রতিক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুই দেশ মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অন্তত তিন হাজারেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ভূত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকলেও মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে চরম আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

গত কয়েকদিনের একটানা ভারী বর্ষণ ও হিমবাহ গলনের কারণে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে কাদা, পাথর ও প্রকাণ্ড কাদার স্রোতে একাধিক সড়ক, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ভেসে গেছে। বিশেষ করে নেপালের ভোতে-কোশি নদীতে পানির সমতল বিপদসীমার ওপর দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নতুন করে প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জোর পরামর্শ দিয়েছে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা।

শুধুমাত্র নেপালের অংশেই এ পর্যন্ত ৬৭৫ জনের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিহতদের একটি বড় অংশের দেহ বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো মরদেহের শেষকৃত্য বা সৎকার করার পূর্বে পরিচয় নিশ্চিতকরণ ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার সুবিধার্থে তাদের ডিএনএ (DNA) নমুনা সংরক্ষণের বিশেষ ঘোষণা দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।

দুর্ভোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও উদ্ধারকারী দলের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ২৫০ জন বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। তবে সেখানকার একটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ টানেলে বিপুল সংখ্যক মানুষ আটকা পড়ায় উদ্ধার কাজ জটিল আকার ধারণ করেছে। অবরুদ্ধদের দ্রুত মুক্ত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি কারিগরি ও উদ্ধার সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে কাঠমান্ডু।

অন্যদিকে, নেপাল সীমান্তসংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলেও প্রাণহানি বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তিব্বতেও এখন পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। পার্বত্য অঞ্চলে যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তল্লাশি কার্যক্রম ব্যাহত হলেও দুর্গম এলাকাগুলোতে সেনাসদস্য ও উদ্ধারকর্মীরা জীবন বাজি রেখে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *