লোহিত সাগরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ইয়ানবুর উপকূলে একটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। ঘটনাটি ঘটার পরপরই আন্তর্জাতিক তেল বাজার ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনভিত্তিক সামরিক গোষ্ঠীটি সোমবার (২৪ আগস্ট) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, তারা ‘আমজান’ (Amzan) নামের একটি বিশালাকার তেলবাহী জাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সফল হামলা পরিচালনা করেছে। ইরান-সমর্থিত হুতিদের মতে, এটি তাদের ঘোষিত ‘অবরোধের বিপরীতে অবরোধ’ নীতি ও সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজ বয়কট অভিযানের অংশ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের এমন কৌশলগত তেল সম্পদে এই হামলা পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারি এক ভিডিও বার্তায় জানান, সৌদি জাতীয় শিপিং কোম্পানি ‘বাহরি’ (Bahri)-র মালিকানাধীন জাহাজটিতে ইয়ানবু বন্দরের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সরাসরি আঘাত হানা হয়। হামলার তীব্রতায় জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং ওই অঞ্চলে থাকা অন্যান্য বাণিজ্য জাহাজগুলো নিরাপদ দূরত্বে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে সৌদি জাতীয় শিপিং কোম্পানি ‘বাহরি’ এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করে যে, লোহিত সাগরে তাদের বহরের ‘আমজান’ জাহাজটি একটি সিকিউরিটি ইনসিডেন্ট বা হামলার মুখোমুখি হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জাহাজের সব কর্মী ও নাবিক সুরক্ষিত আছেন এবং কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ ও অংশীদারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় বজায় রেখে পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য যে, হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে চলাচলকারী সৌদি ও পশ্চিমা স্বার্থসংশ্লিষ্ট তেল ট্যাংকারগুলোকে প্রতিনিয়ত লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে হুতি বিদ্রোহীরা। সম্প্রতি বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে একটি কার্গো জাহাজে জোড়া হামলা চালিয়ে বহু হতাহতের ঘটনার পর লোহিত সাগরে তেল পরিবহন রুট মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি ও অপরিশোধিত তেলের মূল্যে তীব্র অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

