প্রধান খবর

মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশি তরুণ পংকজ তালুকদার

বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের অদম্য তরুণ পংকজ তালুকদার কঠোর ও কঠিন সামরিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করে বিশ্বসেরা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর মর্যাদাপূর্ণ ইঞ্জিনিয়ার কোরে কর্মকর্তা (অফিসার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অদম্য সাহসিকতা, অধ্যাবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জন করা তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বন্ধু, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও অভিনন্দন।

পংকজ তালুকদার সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হাতিম আলী উচ্চবিদ্যালয় ও এমসি কলেজে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। পরবর্তীতে তিনি নিউইয়র্কের খ্যাতনামা ‘সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক’ থেকে সফলতার সাথে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। মার্কিন সেনাবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করার পূর্বে তিনি পেশাগত জীবনে একজন সফল কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উল্লেখ্য, তাঁর পরিবারের পৈতৃক নিবাস সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে পংকজ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পথটি মোটেও মসৃণ বা সহজ ছিল না। প্রতিদিন ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলেছিল তাঁর অবিরত শারীরিক, মানসিক ও বিশেষায়িত সামরিক প্রশিক্ষণ। মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণে প্রায় ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট প্রচণ্ড দাবদাহ, সাপ, ক্ষতিকর পোকামাকড় ও অমানুষিক শারীরিক ক্লান্তির মধ্যেও তাঁকে টানা চার দিন জঙ্গলে অবস্থান করতে হয়েছে। প্রশিক্ষণে এম৪ রাইফেল চালনা, জীবন্ত গ্রেনেড নিক্ষেপ, মাইন শনাক্তকরণ ও ৪৫-৫০ পাউন্ডের ভারী ব্যাকপ্যাক নিয়ে টানা ১০ মাইল হাঁটার মতো কঠিন ধাপ অতিক্রম করতে হয়েছে তাঁকে।

পাঁচ মাসের এই টানা ও নিয়ন্ত্রিত সামরিক প্রশিক্ষণে তাঁর শরীরের ওজন কমেছে প্রায় ২৬ পাউন্ড। বেসামরিক জীবনের আরাম-আয়েশ ছেড়ে আসা পংকজ তালুকদার প্রমাণ করেছেন যে তীব্র ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো দুর্গম পথ জয় করা সম্ভব। নিজের এই অবিস্মরণীয় পথচলা নিয়ে পংকজ বলেন, “বেসামরিক জীবন থেকে যে যাত্রা শুরু করেছিলাম, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ করে এখন আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একজন সদস্য।’ কষ্ট ছিল সাময়িক, তবে এই গর্ব থাকবে চিরদিন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *