সারাদেশে ব্যাপক আলোচিত ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে আজ এই ঐতিহাসিক রায় দেন।
রায়ে প্রধান দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পাশাপাশি ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং অপর ১০ জন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা। ওই মামলায় অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার হলে মামলা তুলে নিতে নুসরাতের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করা হয়। নুসরাত অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করায় ওই বছরের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দেওয়ার সময় পরিকল্পিতভাবে তাকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ অভিযুক্ত ১৬ জন আসামির প্রত্যেককেই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী নিম্ন আদালতের এই সাজা অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও উচ্চ আদালতে পৃথক আপিল দায়ের করেন।
প্রধান বিচারপতির গঠিত বিশেষ বেঞ্চে টানা ১৭ কার্যদিবস বিস্তারিত শুনানি ও পেপারবুক পর্যালোচনার পর হাইকোর্ট এই রায় প্রদান করলেন। নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কাটছাঁট করে ২ জনের সর্বোচ্চ সাজা বহাল রাখা এবং ১০ জনের খালাস পাওয়ার এই রায় এখন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

