নুসরাত হত্যা মামলার আপিলের চূড়ান্ত রায় আজ

সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় আজ ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে বহু প্রতীক্ষিত এই সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে। রায়কে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং পরিবারের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সোনাগাজীতে নুসরাতের বাড়িতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রায়কে ঘিরে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের আবেদনের প্রেক্ষিতে পূর্বে নিয়োজিত দুই পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি আরও সাতজন সশস্ত্র পুলিশ সদস্যকে বাড়িতে মোতায়েন করা হয়েছে। একই সাথে পুরো এলাকায় কড়া নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আপাতত কোনো ধরনের গোলযোগের শঙ্কা না থাকলেও নুসরাতের পরিবারের স্বস্তি ও নিরাপত্তার সুবিধার্থে সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে পরিবারের সদস্য মাহমুদুল হাসান নোমান জানান, বাড়ি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারে তারা সন্তুষ্ট হলেও সামগ্রিক চলাফেরায় এখনও কিছুটা আতঙ্ক কাজ করছে। তাদের একটাই দাবি, বিচারিক আদালতের দেওয়া সর্বোচ্চ সাজা যেন উচ্চ আদালতেও বহাল থাকে এবং কোনো অপরাধী যেন আইনি ফাঁকফোকরে পার পেয়ে না যায়।

প্রসঙ্গতঃ ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে মামলা করেন নুসরাতের মা। ওই মামলায় অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার হলে নুসরাতকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হয়। এতে নুসরাত রাজি না হওয়ায় ওই বছরের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দেওয়ার সময় পরিকল্পিতভাবে তাকে মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মৃত্যুবরণ করেন।

পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ জন আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ স্থানীয় একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শিক্ষার্থী জড়িত ছিলেন। নিম্ন আদালতের এই রাযের পর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে এবং আসামিপক্ষও পৃথক আপিল দায়ের করে। মোট ১৭ কার্যদিবস দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজকের দিনটি রাযের জন্য নির্ধারণ করেন। আজকের এই রায়ের দিকেই এখন অপলক দৃষ্টি নুসরাতের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সমগ্র দেশবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *