ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিষয়বস্তুতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। কারিকুলাম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ইমপ্যাক্ট-এসই’ (IMPACT-se)-র সাম্প্রতিক পর্যালোচনা অনুযায়ী, দেশটির একাধিক পাঠ্যবইয়ের মানচিত্র থেকে ‘প্যালেস্টাইন’ শব্দ বাদ দেওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েলকে ‘জায়নবাদী শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করার ভাষাতেও পরিমার্জন আনা হয়েছে।
সংস্থাটির প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, একাদশ শ্রেণির আরবি ভাষার পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’—এই বহুল পরিচিত বাক্যটি চূড়ান্তভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে বাক্যটি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরবর্তী সংস্করণগুলোতে তা আর রাখা হয়নি। জেরুজালেমের মতো স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অবস্থানের ক্ষেত্রে এটিকে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ইতিহাসের বইগুলোতেও এসেছে স্পষ্ট পরিবর্তন। বিগত সংস্করণে ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের বিবরণীতে ইসরায়েলকে ‘জায়নবাদী শত্রু’ লেখা হলেও নতুন সংস্করণে তা সংশোধন করে ‘ইসরায়েলি দখলদারিত্ব’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু সামাজিক বিজ্ঞান ও ভূগোলের বইয়ে ব্যবহৃত ভৌগোলিক মানচিত্র থেকে নির্দিষ্ট কোনো নাম উল্লেখ না করেই অঞ্চলটি প্রদর্শন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার খবরের মধ্যেই পাঠ্যক্রমের এই পরিবর্তনগুলো প্রকাশ্যে এলো। যদিও রিয়াদ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানিয়ে আসছে যে, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়া তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না। তা সত্ত্বেও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর সামাজিক ও শিক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপগুলোকে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।

