প্রধান খবর

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে ট্রাম্পকে ‘খেলাচ্ছে’ ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া উদ্বিগ্ন পরিবেশের কারণে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে হোয়াইট হাউস দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের চেয়ে রাজনৈতিক বাস্তবতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও হোয়াইট হাউসের সাবেক উপদেষ্টা মার্ক গিন্সবার্গ। তাঁর মতে, তেহরানের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন কার্যত পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে এবং ইরান মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে ‘খেলা’ করছে।

গিন্সবার্গের বিশ্লেষণে উঠে আসে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বর্তমানে এক চরম রাজনৈতিক উভয় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। দেশে তাঁর ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকা জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধার এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখাই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, “শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে জয়ী হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতির উত্তাপ সামাল দিতে যা যা করা প্রয়োজন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক সেটিই করবেন।” ওয়াশিংটনের এই অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার টানাটানি এবং সিদ্ধান্তহীনতা সম্পর্কে তেহরানের শাসকেরা খুব ভালোভাবে অবহিত।

ইরানের ভূ-রাজনৈতিক কৌশল তুলে ধরে সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিক জানান, তেহরান প্রতিনিয়ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জনমত জরিপ ও সামাজিক পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে। তাঁর ভাষায়, “ইরানিরা আমেরিকার জনমত জরিপগুলো খুব সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা রক্ষা করতে প্রয়োজনে দেশের শেষ নাগরিকটি মারা যাওয়া পর্যন্ত ক্ষমতা ধরে রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। জনগণের ওপর অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক যত কঠিন শাস্তিই নেমে আসুক না কেন, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তারা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।”

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা ও বিরক্তি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসনও এক কঠিন জটিলতায় পড়েছে, কারণ রাজনৈতিক ইমেজ বাঁচাতে প্রেসিডেন্ট কোনোভাবেই নিজের সিদ্ধান্ত থেকে প্রকাশ্যে পিছিয়ে এসে পরাজিত হতে রাজি নন। তবে গিন্সবার্গের মতে, ইরান প্রশাসন এক সুপরিচিত ফলাফলের ওপরই বাজি ধরে এগোচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে গিন্সবার্গ স্পষ্ট জানান, তেহরানের মূল হিসাব-নিকাশ হলো শেষ পর্যন্ত গৃহস্থালি রাজনীতির চাপে পড়ে ওয়াশিংটন তাদের ওপর আরোপ করা কঠিন ও কঠোর দাবিগুলো থেকে কিছুটা হলেও পিছিয়ে আসতে বাধ্য হবে। সেই সুযোগে তেহরান নিজেদের ওপর আরোপিত কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিল বা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের বড় ধরনের সুযোগ বাগিয়ে নেবে, যা মূলত মার্কিন নীতির এক বড় কূটনৈতিক পরাজয় হিসেবে গণ্য হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *