দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনদুর্ভোগের জন্য আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল টিঅ্যান্ডটি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দরিদ্রদের মাঝে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
বক্তব্যকালে বিদ্যুৎ খাত নিয়ে অপরাজনীতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কিছু রাজনৈতিক দল হঠকারিতার আশ্রয় নিয়ে বিদ্যুৎ খাতকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।” জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি আরও জানান, সরকার শুরু থেকেই গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কারিগরি ত্রুটিগুলো ইতোমধ্যেই অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সার্বিক বিদ্যুতের ঘাটতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশে গণতন্ত্রের চর্চা বহাল থাকলে প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়, যার প্রত্যক্ষ সুফল পায় দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন। বিরোধী দলগুলোর কঠোর সমালোচনা করে তিনি কেবল অভিযোগ না তুলে আগামী তিন মাসের মধ্যে এই বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যা সমাধানের যৌক্তিক কোনো রূপরেখা বা পরিকল্পনা থাকলে তা উপস্থাপনের জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
একই অনুষ্ঠানে জনকল্যাণমুখী বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দেন রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি জানান, দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়নে কাজ করছে বর্তমান সরকার। আগামী এক মাসের মধ্যে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে নতুন স্কুল ড্রেস বিতরণের কার্যক্রম শুরু হবে। এ ছাড়া চিকিৎসাসেবা প্রান্তিক মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশের সকল উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ক্রমান্বয়ে ১০০ শয্যায় উন্নীত করারও প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

