সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি চমকপ্রদ ভিডিও ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, জাপানের ২৬ বছর বয়সী এক যুবক অস্ত্রোপচার ও বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেকে পুরোপুরি কুকুরে রূপান্তরিত করেছেন এবং এতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ২২০ কোটি টাকা। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইন্টারনেটে আলোড়ন তোলা এই বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় ও শারীরিক রূপান্তরের খবরটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
ভাইরাল হওয়া ওই সামাজিক পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছিল, ‘জাসো’ নামের এক যুবক কুকুরের অবয়ব পেতে একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার করিয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি কুকুরের মতোই জীবনযাপন করছেন। এমন অস্বাভাবিক ও চমকপ্রদ দাবি নিমেষেই নেটিজেনদের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং শুরু হয় তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক।
তবে ফ্যাক্ট চেকে বেরিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। প্রকৃতপক্ষে কোনো চিকিৎসা বিজ্ঞান বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কোনো মানুষ কুকুরে রূপান্তরিত হননি। বাস্তব ঘটনা হলো, জাপানের ‘টোকো’ নামের এক ব্যক্তি ছোটবেলা থেকেই পশুর বেশে জীবন উপভোগ করার স্বপ্নে একটি বিশেষ পোশাক বা কস্টিউম তৈরি করান। জাপানের বিখ্যাত বিশেষ রূপসজ্জা ও বিনোদন সরঞ্জাম নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ‘জেপেট’ (Zeppet) বর্ডার কোলি জাতের কুকুরের আদলে এই অতি-বাস্তবসম্মত পোশাকটি তৈরি করে দেয়।
পোশাকটি তৈরিতে ২০ লাখ জাপানি ইয়েন বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছিল, যা তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় ৪০ দিন। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য ও মুখরোচক তথ্য ছড়াতে গিয়ে এই মূল্যকে অবিশ্বাস্যভাবে বাড়িয়ে ‘২২০ কোটি টাকা’ বলে প্রচার করা হয়।
অতএব, ২২০ কোটি টাকা খরচ করে জৈবিকভাবে মানুষ থেকে কুকুরে পরিণত হওয়ার দাবিটি একেবারেই গুজব। বাস্তবসম্মত একটি কাস্টম কস্টিউম বা কৃত্রিম পোশাক পরা মানুষের ভিডিওকেই ভুল ব্যাখ্যা ও মিথ্যা তথ্য জুড়ে ইন্টারনেটে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।

