পাকিস্তানে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় ফাঁকা গুলির আঘাতে এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছুড়তে থাকা এ ধরনের আনন্দসূচক গোলাগুলিতে অন্তত ৯৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৭টি শিশুও রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় একটি উদ্ধারকারী সেবা সংস্থা।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, করাচি শহরের রাজপথ ও অলিগলিতে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বর্ষবরণের মতো আকাশে বেপরোয়া ও অনিয়ন্ত্রিত ‘হাওয়াই ফায়ারিং’ বা ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে সাধারণ মানুষ। রাতের আঁধারে করাচির প্রায় ডজনখানেক জনবহুল এলাকা-যার মধ্যে লিয়াকত, সদর, কোরাঙ্গি, মালির, আজিজাবাদ, নর্থ নাজিমাবাদ, গুলশান-ই-ইকবাল ও ডিফেন্স অন্যতম-সেখানে উন্মাদনার চরম দৃশ্য দেখা যায়। অনিয়ন্ত্রিত সেই বুলেটের আঘাতে একজন নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান।
আন্তর্জাতিক ও উদ্ধারকারী সংস্থাসমূহের দেওয়া তথ্য মতে, আহত ৯৪ জনের মধ্যে ১০ জন নারী, ১৭ জন শিশু এবং ৫৯ জন পুরুষ রয়েছেন। ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে জিন্নাহ পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিকেল সেন্টার, সিভিল হাসপাতাল ও আব্বাসি শহীদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এমন উদ্ভূত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জেরে করাচির একাধিক এলাকায় আকস্মিক অভিযান চালিয়ে বেআইনিভাবে গুলি ছোঁড়ার অভিযোগে অন্তত ৩০ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
উৎসব পালনের নামে প্রতি বছর আকাশে ফাঁকা গুলি ছোড়ার এই পৈশাচিক অভ্যাসের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, মাধ্যাকর্ষণের টানে ওপরের দিকে ছোড়া ভারী বুলেট দ্রুতগতিতে নিচে নেমে আসার সময় তা মারাত্মক ঘাতক অস্ত্রে পরিণত হয় এবং নিষ্পাপ পথচারী বা ঘরের মধ্যে থাকা মানুষের মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইতিপূর্বে গত ২০২৫ সালেও করাচিতে একই রকম উদযাপনে ৩ জন মারা যান এবং এর আগের বছর ২০২৪ সালেও ফাঁকা গুলিতে অন্তত ৯৫ জন রক্তাক্ত ও আহত হয়েছিলেন।

