প্রধান খবর

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: ছোরা উদ্ধার, আসামি বাবুল কারাগারে

সিলেট নগরীর রায়নগরে প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছোরা উদ্ধার করেছে পুলিশ। আটক হওয়া আসামি বাবুল মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রায়নগরের একটি ফাঁকা স্থান থেকে রক্তমাখা ছোরাটি উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে বিচারিক আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

গত ১২ আগস্ট সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ‘নিকুঞ্জ ভিলা’ নামের ১১১ নম্বর বাসা থেকে ৮২ বছর বয়সী আব্দুস সাত্তার, তাঁর ৭৬ বছর বয়সী স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং ২৫ বছরের গৃহকর্মী তাহমিনার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দরজার নিচ দিয়ে রক্ত ভেসে আসতে দেখে স্থানীয় এক বাসিন্দা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দিলে পৈশাচিক এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত ছোরার ধাতব অংশে শুকনো রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত রক্তের নমুনার সাথে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের আলামত মিলিয়ে দেখার জন্য এটি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নিহত গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুলের পূর্বপরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বুধবার সকালে তাহমিনার সাথে দেখা করতে বাবুল ওই বাড়িতে যান। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বাবুল প্রথমে তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করেন। গৃহকর্মীর চিৎকার শুনে সুরাইয়া বেগম ও পরবর্তীতে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাদের দুজনকেও একের পর এক ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

তবে কেবল প্রেমের বিরোধ নাকি এর পেছনে সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনো গোপন গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে জোর তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে তল্লাশি চালিয়ে খোলা আলমারি ও একটি দলিলসদৃশ কাগজ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, ঘটনার সময় এলাকাটিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং থাকায় সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ফুটেজ রেকর্ড হয়নি। ফলে পারিপার্শ্বিক নানা তথ্য ও প্রযুক্তিগত আলামতের ওপর ভিত্তি করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পেয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন নিহত দম্পতির দুই প্রবাসী কন্যা। দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে মা-বাবার নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা, যার ফলে পুরো রায়নগর এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে ওই বাড়ির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সিলেটের সুশীল সমাজ ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *