গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অটোরিকশাচালক সুমন হত্যার তিনদিন পর চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। কোনো ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে নয়, বরং নিজ স্ত্রীকে অনৈতিক ও কু-প্রস্তাব দেওয়ার প্রতিবাদ করায় সুমনকে পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতাসহ দুই অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন-উপজেলার বড়ইতলী গ্রামের ইমরুল হাসান মামুন (৪৪) এবং টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার লোকেরপাড় এলাকার জাহিদুল ইসলাম (৩০)। পুলিশ জানায়, নিহত সুমন এবং অভিযুক্ত মামুন ও জাহিদুল একসঙ্গে নিয়মিত মাদকসেবন করতেন। পূর্বে এক সড়ক দুর্ঘটনায় সুমন আহত হলে মামুন তার চিকিৎসার খরচ বহন করেন। পরবর্তীতে সেই চিকিৎসার টাকা ফেরত দিতে বিলম্ব হলে সুমনকে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি তার স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে বিভিন্ন সময়ে কু-প্রস্তাব দিতে শুরু করেন মামুন।
স্ত্রী শাহনাজ বেগম অনৈতিক প্রস্তাবে অতিষ্ঠ হয়ে বিষয়টি স্বামী সুমনকে জানান। এরপর সুমন এই অন্যায় আচরণের তীব্র প্রতিবাদ করলে মামুনের সঙ্গে তার তুমুল কথাকাটাকাটি ও শত্রুতার সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই গত ৫ আগস্ট রাতে চন্দ্রা থেকে যাত্রীবেশে সুমনের অটোরিকশায় ওঠে দুর্বৃত্তরা। অটোরিকশাটি দোকানপাড় এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা সুমনের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর দিন নিহতের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তে নেমে পুলিশ রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, অটোরিকশাচালক খুনের ঘটনায় মূল দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে গাজীপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

