যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আয়োজিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে বিশ্বসেরা ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। শুধু মেসিই নন, টুর্নামেন্টজুড়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পিসহ একাধিক তারকা খেলোয়াড়, কোচ ও রেফারিদের চরম নিরাপত্তাঝুঁকি, হয়রানি এবং মৃত্যুর হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল। পুলিশের একটি উচ্চপর্যায়ের গোপনীয় নথি থেকে এমন সব তথ্য উঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অনুসরণে জানা যায়, পুলিশি নথিতে বিশ্বকাপজুড়ে সবচেয়ে বেশি টার্গেটে থাকা ব্যক্তিত্ব হিসেবে লিওনেল মেসির নাম উল্লেখ করা হয়। নথির তথ্যানুযায়ী, মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক ব্যক্তি আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঢুকে শরীরে চারটি বোমা বেঁধে মেসিকে উড়িয়ে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দেয়। অন্য একটি ঘটনায় ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করে এক সন্ত্রাসী দাবি করে, তাদের কাছে নিজস্ব তৈরি বোমা ও সেমি-অটোমেটিক রাইফেল রয়েছে এবং তারা স্টেডিয়ামে ঢুকে খেলোয়াড় ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালাবে। এমনকি ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামের ডাস্টবিনে বোমা রাখার ভুয়া বার্তা দিয়েও আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়, যার পর বম্ব স্কোয়াড ও স্নাইপার ডগ নিয়ে পুরো স্টেডিয়ামে তল্লাশি চালানো হয়।
এদিকে পর্তুগিজ মহা-তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও টুর্নামেন্ট চলাকালীন সার্বক্ষণিক হয়রানি ও নজরদারির মধ্যে থাকতে হয়। ফিফার কর্মীরা রোনালদোর অবস্থান জানতে চাওয়া এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে হিউস্টনের একটি হোটেল থেকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। কানাডার টরন্টোতে এক ব্যক্তি জোরপূর্বক রোনালদোর লিফটে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেও মাঠে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর চরম বর্ণবাদী আচরণ ও বিদ্বেষের শিকার হন; এমনকি প্যারাগুয়েতে তাঁর ছবি সংবলিত পুতুল জ্বালিয়ে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ব্যর্থতা ও ভুলের কারণে মৃত্যুর হুমকি থেকে রেহাই পাননি অন্য ফুটবলাররাও। নরওয়ের সোরলোথ ও কলম্বিয়ার জামিন্তন কাম্পাজ গোল ও পেনাল্টি মিস করার পর পরিবারসহ প্রাণনাশের হুমকি পান। কলম্বিয়ান এই ফুটবলার নিরাপত্তার ভয়ে বিশ্বকাপ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে নিজ দেশে ফিরতে পর্যন্ত পারেননি। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দল এবং ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে হোয়াটসঅ্যাপে হাজার হাজার হুমকি দেওয়া হলে টুর্নামেন্টজুড়ে এফবিআই ও নিরাপত্তারক্ষীদের এক চরম বেগ পোহাতে হয়।

