প্রধান খবর

সেউটা সীমান্তে গণ-অনুপ্রবেশের চেষ্টা: নিহত বেড়ে ১৪

স্পেন নিয়ন্ত্রিত সেউটা ছিটমহলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় গণ-অনুপ্রবেশের ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা আরও ঘনীভূত হয়েছে। সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) মরক্কোর জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ (সিএনডিএইচ) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন করে আরও তিনজনের মৃত্যুর বিষটি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, স্পেনের সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করলে সীমান্ত সংঘর্ষ ও অনাহারে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০ জনে।

অনিয়মিত এই অভিবাসীদের মানবিক সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্পেনের সেউটা কর্তৃপক্ষের মারাত্মক ব্যর্থতা ও চরম অবহেলার কারণেই এই মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে বলে অভিযোগ তুলেছে সিএনডিএইচ। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ছিটমহলে অভিবাসীরা প্রবেশের পর স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় প্রশাসন। ফলে মারাত্মক খাদ্য ও পানীয় জলের সংকটে পড়েন সেখানে আটকা পড়া হাজার হাজার মানুষ।

শুধু অনাহার ও খাদ্য সংকটই নয়, সেউটার ভেতরে পৌঁছানো আশ্রয়প্রার্থীদের পোহাতে হচ্ছে তীব্র বর্ণবাদ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি। তাদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় সার্বিক পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সীমান্তজুড়ে রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষের ঘটনায় বহু বেসামরিক নাগরিকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গুরুতর আহত হয়েছেন।

সংগৃহীত তথ্যমতে, এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে অন্তত ১৩৬ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হন। পাশাপাশি মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৭ জন সদস্য গুরুতর আহত হয়ে জরুরি চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে স্পেনের নিজস্ব হতাহতের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান চালিয়ে অন্তত ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী, যাদের মধ্যে ১১ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। সীমান্তে বিশৃঙ্খলা চলাকালে ৬১টি ব্যক্তিগত গাড়ি, ১৫টি মোটরসাইকেল এবং ১৮টি সরকারি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ থেকে ৩১ জুলাই হাজার হাজার অভিবাসী অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পেরোনোর চেষ্টা চালান। ব্যর্থ চেষ্টার পর অধিকাংশ ক্ষুধাতুর অভিবাসী ফনিদেক শহরে ফিরে যেতে বাধ্য হন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত প্রায় ৬৯ হাজার মানুষ মরক্কোয় ফেরত গেলেও সেউটার অভ্যন্তরে এখনো ৩ থেকে ৫ হাজার অভিবাসী আটকে আছেন। অনাহার ও চিকিৎসাহীনতায় থাকা এই চরম সংকটাপন্ন মানুষদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *