সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তরুণী বাউলশিল্পী পেহলি ভৈরবী (২৩) ও তিন বছরের এক শিশুসহ মোট ৯ জন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মধ্যে এই ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে।
নিহত বাউলশিল্পী পেহলি ভৈরবী কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চন্ডিবের এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে। দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ছাবাল শাহর মাজারের গানের আসরে সুরের মায়াজালে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই তার গান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারও করেছিলেন। কিন্তু রাতের অনুষ্ঠান শেষ করে সকালে বাসে চেপে বাড়ি ফেরার পথেই প্রদীপ নিভে গেল এই উঠতি শিল্পীর।
বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নিহত ৯ জনের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পেহলি ভৈরবী ছাড়াও অন্য নিহতরা হলেন-দক্ষিণ সুরমার চণ্ডিপুল বাইপাস এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীরের ৩ বছরের শিশুকন্যা জাইফা, সিলেট নগরের সোবহানীঘাটের বাসিন্দা সপ্তম রায় প্রীতম (২৬), কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আবুল হোসেন (৪৪) এবং কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের হাফিজ আরমান হোসেন রাহিম (১৯)। এই দুর্ঘটনায় কন্যাসন্তানকে হারিয়ে আহত পিতা-মাতা হাসপাতালে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি অন্য একটি যানবাহনকে বিপজ্জনকভাবে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা ইউনিক পরিবহনের বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়। এতে উভয় বাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় এলাকাবাসী, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্ধারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। পরবর্তীতে দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহন দুটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

