আর্থিক সুবিধা অব্যাহত রাখার উদ্দেশ্যে নিজ মায়ের মৃতদেহ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ডিপ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর অপরাধে যুক্তরাজ্যে এক ব্যক্তিকে দুই বছরেরও বেশি কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাউথ ওয়েলসের আদালতে ৬০ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার ফিলিপস নামের ওই অপরাধীকে এই সাজা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রিস্টোফার ফিলিপস আদালতে মৃতদেহের আইনসম্মত সৎকার বা দাফনে বাধা প্রদান এবং পেনশন ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার জালিয়াতির কথা স্বীকার করেন। ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে, যখন সাউথ ওয়েলস পুলিশ সিলভিয়া ফিলিপস নামের ওই বৃদ্ধার খোঁজ নিতে তাঁর বাসভবনে উপস্থিত হয়। ২০২২ সালের পর থেকে ওই বৃদ্ধা কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসেবা বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সন্দেহ জাগে।
পুলিশ অনুসন্ধানে গেলে ছেলে ক্রিস্টোফার দাবি করেছিলেন যে তাঁর মা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তবে সুনির্দিষ্ট ঠিকানা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ ঘরে তল্লাশি চালায়। অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে ঘরের একটি ডিপ ফ্রিজারের ভেতর থেকে আশির কোঠায় থাকা সিলভিয়া ফিলিপসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা ফুল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল।
আদালতের রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, সরকারি আর্থিক সুবিধাভোগের লোভে মায়ের মৃত্যুর সংবাদ চেপে যাওয়া এবং মৃতদেহের মর্যাদাপূর্ণ সৎকারে বাধা দেওয়া অত্যন্ত গুরুতর সামাজিক ও আইনি অপরাধ। মায়ের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি এবং পুলিশ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। অবশেষে প্রতারণা ও অপরাধের বিচার শেষে অভিযুক্ত ছেলেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

