পটুয়াখালীতে শিক্ষার্থীদের দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ভিডিও ভাইরাল

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (বিএম) ইনস্টিটিউটে এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক নিজে মূল্যায়ন না করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে উত্তরপত্র কাটানো ও নম্বর তোলার কাজ করাচ্ছেন-এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় অঞ্চলজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদসূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের একটি শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে বসে চারজন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী একসঙ্গে একাধিক এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র নিয়ে কাজ করছেন। ভিডিওতে তাদের লাল ও কালো কলম দিয়ে খাতার কভার পৃষ্ঠা পূরণ ও নম্বরের কাজ করতে স্পষ্ট দেখা যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে বাংলা বিষয়ের (বিষয় কোড-২১৮১১) ৩৫০টি উত্তরপত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এক প্রভাষকের কাছে পাঠানো হয়েছিল, যা আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা।

এ ঘটনায় শিক্ষাবোর্ডের গোপনীয়তা রক্ষা বিধিমালা লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণের এই সংবেদনশীল কাজটি সম্পূর্ণ পরীক্ষকের নিজ দায়িত্বে সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জানান, মূল্যায়নের কাজ পরীক্ষক নিজেই করেছেন; কেবল সময়ের স্বল্পতার কারণে খাতার মলাট পূরণের জন্য শিক্ষার্থীদের সামান্য সাহায্য নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় শিক্ষা অফিসের প্রতিনিধিরা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়ে জানান, শিক্ষার্থীরা মূলত নিজেদের খাতা মনে করে তা উল্টেপাল্টে দেখছিল কি না, তা-ও তদন্ত করা হচ্ছে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। রাঙ্গাবালী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ঘটনাটি সম্পর্কে আগে তারা অবহিত ছিলেন না। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত টিম গঠন করে দোষী প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এইচএসসি পরীক্ষার মতো একটি জাতীয় পাবলিক পরীক্ষার খাতা খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ায় পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠে এসেছে। অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও বিশিষ্টজনেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *