উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের মালিকানাধীন ছিটমহল সেউতায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হাজার হাজার অভিবাসীর নজিরবিহীন অনুপ্রবেশের চেষ্টায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭২ জনে পৌঁছেছে। রোববার (২ আগস্ট) সেউতা প্রশাসনের স্থানীয় কর্মকর্তারা এই ভয়াবহ মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এই খবর প্রকাশ করেছে।
সেউতায় নিযুক্ত স্পেন সরকারের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি মিগুয়েল পেরেজ ত্রিয়ানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, “আমাদের কাছে আসা সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী সেউতা সীমান্তে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ জনে দাঁড়িয়েছে।” এর আগে এই প্রাণহানির সংখ্যা ৬৭ জন বলে প্রাথমিক তথ্যে নিশ্চিত করা হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরক্কো সীমান্ত ঘেরা ভূমধ্যসাগরের জলসীমা সাঁতরে এবং স্থল সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসন প্রত্যাশী একযোগে সেউতায় প্রবেশের মারাত্মক চেষ্টা চালান। গত বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে সংঘটিত এই রেকর্ডসংখ্যক অনুপ্রবেশের ঘটনার পর রোববার সেউতার সীমান্ত পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। স্প্যানিশ ও মরক্কো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় অনুপ্রবেশকারীদের একটি বড় অংশকে ইতোমধ্যে পুনরায় মরক্কোতে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
স্পেন কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশটির সুপ্রিম কোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায়কে ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক পাচারকারী ও অপরাধী চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ায় যে, সেউতা সীমান্ত দিয়ে স্পেনে প্রবেশ সহজ করা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী আলজেরিয়ার সঙ্গে স্পেনের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের প্রেক্ষিতে স্পেনের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেই মরক্কো ইচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে থাকতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালেও অনূরূপভাবে সীমান্ত শিথিলতার সুযোগ নিয়ে প্রায় ১০ হাজার অভিবাসী সেউতায় ঢুকে পড়েছিলেন। অবশ্য সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে মরক্কো সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

