কক্সবাজারের টেকনাফে সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনাকাস্টডি বা সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারিকৃত গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
সোমবার গভীর রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল সামিউদ্দৌলা চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিনকে সেনা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুসরণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফে চাঞ্চল্যকর একরামুল হক হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নাম রয়েছে।
প্রতিবেদনটির ওপর শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তদের মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং ইতিপূর্বে গ্রেপ্তার থাকা অন্য আসামিদের নির্দিষ্ট দিনে আদালতে হাজির করার কঠোর নির্দেশ দেন। সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ধারাবাহিকতাতেই ব্রিগেডিয়ার মিফতাহকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরবর্তী নির্ধারিত শুনানির তারিখে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে একরামুল হককে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করার সময় তৎকালীন র্যাব কর্মকর্তা মিফতাহ উদ্দিন আহমেদসহ অভিযুক্ত আরও কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ সর্বশেষ বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের তালিকায় তৎকালীন পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের পাশাপাশি তার নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

