ভিন্ন জাতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার অপরাধে ভারতে নিজ পরিবারের হাতেই প্রাণ হারালেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। তরুণীকে পিটিয়ে হত্যার পর ঘটনাটি আড়াল করতে তাড়াহুড়ো করে তাঁর মরদেহ দাহ পর্যন্ত করে ফেলে পরিবার। তবে প্রেমিকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ তরুণীর মা, দুই ভাই ও দুই চাচাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) নিহত তরুণী হিমার্শীর প্রেমিক হার্ষিত পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। তিনি থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানান, তাঁর প্রেমিকা হিমার্শীকে পরিবারের সদস্যরা অনার কিলিংয়ের (Honor Killing) শিকার বানিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন এবং রাতারাতি গোপন স্থানে মরদেহ দাহ করে দিয়েছেন।
পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, হিমার্শী ও হার্ষিত ভিন্ন জাতের হওয়ায় দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে তাঁদের সম্পর্কের চরম বিরোধিতা করে আসছিল তরুণীর পরিবার। সম্প্রতি একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হিমার্শী স্থানীয় একটি দোকানে হার্ষিতের সঙ্গে দেখা করতে গেলে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে দুজনকে বেধড়ক মারধর করেন।
প্রেমিকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতেই পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে নিহত তরুণীর মা, দুই ভাই ও দুই চাচাকে গ্রেপ্তার করে। নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা প্রকাশ করে এই নৃশংস ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন প্রেমিক হার্ষিত। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

