প্রধান খবর

শিক্ষার্থীদের পাশে শচীন টেন্ডুলকার: ‘ব্যর্থতা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু প্রতারণা নয়’

ভারতে সাম্প্রতিক প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সৃষ্টি হওয়া দেশব্যাপী তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার মধ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার। কঠিন এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ও সততা বজায় রাখার আকুল আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সাফল্য অর্জনে কোনো অবস্থাতেই অসদুপায় কিংবা শর্টকাটের পথ গ্রহণ করা যাবে না।বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ আবেগঘন বার্তায় ভারতের এই মহানায়ক শিক্ষার্থীদের প্রতি নিজের সংহতি ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।

নিজের পারিবারিক জীবনের স্মৃতি স্মরণ করে শচীন টেন্ডুলকার লেখেন, “আমার বাবা একজন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি বহু তরুণ শিক্ষার্থীর শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমার মনে একটি শিক্ষা চিরতরে গেঁথে দিয়েছিলেন—’ব্যর্থতা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু প্রতারণা নয়। জীবনে কখনো কোনো শর্টকাটের পথ বেছে নেবে না।'”

বর্তমান সামাজিক মানসিকতার সমালোচনা করে শচীন জোর দিয়ে বলেন, সমাজের প্রাপ্তবয়স্ক ও অভিভাবকদের প্রথম দায়িত্ব হলো একটি সঠিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলা। তিনি উল্লেখ করেন, যে সমাজ কেবল শেষ ফলাফলকে প্রাধান্য দেয়, সেখানে মেধার চেয়ে অসদুপায় বা শর্টকাটের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই ফলাফলের চেয়ে শিক্ষার্থীর সৎ পরিশ্রমকে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের কারণে তরুণেরা যে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, সে কথা মেনে নিয়ে শচীন লেখেন, “আজ যখন শিক্ষার্থীরা অনুভব করে যে তাদের কঠোর পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন হয়নি, তখন তাদের হতাশ হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব হলো-এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন ভবিষ্যতে আর কখনো তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করা। ভারতের তরুণ সমাজ স্বপ্ন ও অপার শক্তিতে ভরপুর; তারাই দেশের সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি।”

তরুণদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে সমাজ, অভিভাবক, শিক্ষক, প্রশাসন সবার আলাদা দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে ক্রিকেট ঈশ্বর আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সবাই মিলে এমন একটি টেকসই সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে, যেখানে কঠোর পরিশ্রমের মর্যাদা দেওয়া হবে, সততাকে পুরস্কৃত করা হবে এবং চূড়ান্ত বিচারে মেধাই জয়ী হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *