প্রধান খবর

ভেনিস উৎসবে গাজা নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র ‘নাজা’র পুরষ্কার জয়: নির্মাতাদের হুমকি

৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র ‘নাজা’ বিশেষ জুরি পুরষ্কার জয় করার পর চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার। পুরস্কার অর্জনের পর তথ্যচিত্রটির দুই ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল জোরের নাগরিকত্ব অবিলম্বে বাতিল করার হুমকি দিয়েছেন দেশটির এই প্রভাবশালী মন্ত্রী।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় মিকি জোহার তথ্যচিত্রটিকে ‘জঘন্য’ এবং ভেনিস উৎসবে এটি পুরস্কৃত হওয়াকে ‘বিস্ময়কর’ বলে আখ্যা দেন। বিশ্বজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষী গোষ্ঠীর বাহবা ও প্রশংসা কুড়াতে গিয়ে নির্মাতারা নিজেদের মাতৃভূমির অপূরণীয় ক্ষতি করছেন বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। একই সাথে তাদের এই আন্তর্জাতিক পদক্ষেপকে ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী লেখেন, “সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও স্বার্থের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করার দায়ে এসব নিন্দনীয় নির্মাতাদের ইসরায়েলি নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য আমি অনতিবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি।”

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, ৮০ মিনিট দৈর্ঘ্যের আলোচিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’-তে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পরিচালিত অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের চিত্র বিশদভাবে উন্মোচিত করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, কীভাবে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিত গণহত্যা ও লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণে এআই চালিত প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। চলচ্চিত্রটির

প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পর অডিটোরিয়ামে উপস্থিত দর্শকেরা প্রায় ২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে নির্মাতাদের করতালি দিয়ে অভিবাদন জানান।
উৎসবে প্রদর্শিত তথ্যচিত্রে নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচয় গোপন রেখে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। এতে ‘ল্যাভেন্ডার’ নামের এক বিতর্কিত এআই ব্যবস্থার তথ্য ফাঁস করা হয়, যা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সুনির্দিষ্ট টার্গেটেড কিলিং নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়েছে। পরিচালক ইউভাল আব্রাহাম জানান, পশ্চিমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের চাপ তৈরি করাই ছিল এই ডকু-ফিল্মের প্রধান উদ্দেশ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *