প্রধান খবর

গাজায় নির্মম বিমান হামলা: ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

গাজা সিটির সাবরা এলাকায় এক মর্মান্তিক বিমান হামলায় একই পরিবারের শিশুসহ ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে এই ঘটনাটি আবারও বেসামরিক মানুষের চরম নিরাপত্তাহীনতার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

স্থানীয় চিকিৎসাকর্মী ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ফারাস আল-মাসরি, তাঁর স্ত্রী সালসাবিল এবং তাঁদের চার সন্তান-তিনটি মেয়ে ও একটি ছেলে। নিমিষেই একটি পুরো পরিবারের স্বপ্ন ও জীবন প্রদীপ নিভে গেছে এই হামলায়। কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই বসতঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতেও বেগ পেতে হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র সংগঠন হামাসের এক সদস্য। তবে এ বিমান হামলার সার্বিক ফল ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে তারা এখনো তদন্ত চালাচ্ছে। এর আগে, গত শুক্রবার থেকে পরিচালিত পৃথক কয়েকটি অভিযানে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের তিন যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করে সামরিক বাহিনী। তাঁদের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় অংশগ্রহণ ও জিম্মি আটকে রাখার অভিযোগ ছিল।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় সামরিক অভিযান চলছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ১৫০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাঁদের একটি বড় অংশই নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক। অন্যদিকে, গাজায় হামাসের হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূচনা হয়। সেই হামলায় প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়। এর জবাবে চালানো ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষ চরম সংকটের মুখে উপকূলের ছোট একটি এলাকায় অস্থায়ী তাঁবু কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *