যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। সোমবার (২০ জুলাই) লেনদেনের শুরুতে তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যানুসারে, সোমবার চালানের জন্য ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার ২ দশমিক ৬৯ ডলার বা ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৭৯ ডলারে পৌঁছায়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২ দশমিক ১৯ ডলার বা ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ দশমিক ৬৮ ডলারে।
সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক ভূ-রাজনীতি ও সামরিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার জের সরাসরি তেলের বাজারে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টানা বিমান অভিযান ও ইরানি বন্দরে নৌ-অবরোধের বিপরীতে মার্কিন ঘাটিতে পাল্টা হামলা এবং বিশ্বের অন্তত ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের মূল পথ ‘হরমুজ প্রণালি’তে ইরানের কড়াকড়ির কারণে এই মারাত্মক সরবরাহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আর্থিক তথ্য সংস্থা এলএসইজি জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে এসেছে। তা ছাড়া ওমান উপকূলে জ্বালানিবাহী একটি ট্যাঙ্কারে অগ্নিকাণ্ডের খবরে বৈশ্বিক তেলের বাজারের আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিষেবা সংস্থা বার্কলেজের বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থার উপর যে চরম সংকট তৈরি হয়েছে, তা এখনো তেলের মূল্যে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দ্রুত নিরসন না হলে বা দীর্ঘায়িত হলে সামনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বহুদূর বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

