প্রধান খবর

বাথটাবের সেই ঐতিহাসিক ছবিই এখন বিশ্বকাপ ফাইনালের বিজ্ঞাপন!

নিয়তি মাঝেমধ্যে এমন কিছু গল্প লেখে, যা হলিউডের সবচেয়ে প্রতিভাবান চিত্রনাট্যকারের কল্পনাকেও হার মানায়। আগামী রবিবার (১৯ জুলাই) নিউ জার্সির মাঠে ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালে তেমনই এক অবিশ্বাস্য রূপকথা দেখতে চলেছে বিশ্ব। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে ইউরোপ সেরা স্পেন। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মহাযুদ্ধের ঠিক কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছেন দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকা-৩৯ বছর বয়সী জীবন্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি এবং ১৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল।

কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে ইউরো চ্যাম্পিয়নদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের পাশাপাশি এটি মূলত দুই দশকের এক পরম মায়াবী সম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতি। পেশাদার ফুটবলে এবারই প্রথম তারা একে অন্যের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। তবে মাঠের বাইরে তাদের প্রথম মোলাকাতের ইতিহাস প্রায় বিশ বছর পুরোনো। ২০০৭ সালের শেষ দিকে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে একটি বিশেষ চ্যারিটি ক্যালেন্ডারের জন্য ফটোশুটের আয়োজন করা হয়েছিল। রাষ্ট্রসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) ও স্থানীয়দের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেই চ্যারিটি র্যাফেল ড্র-তে বিজয়ী হয়ে লটারির মাধ্যমে মেসির সাথে ছবি তোলার সুযোগ পায় ইয়ামালের পরিবার।

সেই ফটোশুটের একটি ছবি পরবর্তীকালে গোটা পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ছবিতে দেখা যায়, একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের বেবি বাথটাবের ভেতর বসে আছে মাত্র ছয় মাসের অবুঝ শিশু লামিনে ইয়ামাল; আর পরম মমতায় তাকে স্নান করাচ্ছেন লম্বা চুলের ২০ বছর বয়সী উদীয়মান তারকা লিওনেল মেসি। সেই মুহূর্তে ড্রেসিংরুমে উপস্থিত কেউ দূরতম কল্পনাতেও ভাবেননি যে, এই তরুণটি একদিন ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হবেন, আর বাথটাবের ওই শিশুটিই একদিন বিশ্বকাপে স্পেনের প্রধান সেনাপতি হয়ে মেসির মুখোমুখি দাঁড়াবেন!

দীর্ঘদিন আর্কাইভের অন্ধকারে ঢাকা পড়ে থাকা এই ছবি ২০২৪ সালের ইউরো কাপে ইয়ামালের অতিমানবীয় উত্থানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে লামিনে ইয়ামাল এই ঐতিহাসিক ছবি এবং মেসির মুখোমুখি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নিজের আবেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানান, ফিনালিসিমা ম্যাচটি মাঠে না গড়ানোয় তিনি মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন যেন বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে পারেন। অবশেষে ভাগ্যদেবতা ইয়ামালের সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চলেছেন।

২০০৭ সালে যে হাতটি একটি শিশুকে প্লাস্টিকের বাথটাবে পরম আদরে আগলে রেখেছিল, ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই সেই হাতটিই সেই শিশুর হাত থেকে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি কেড়ে নিতে লড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *