প্রধান খবর

মুজতাবা খামেনিকে বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি

নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার কারণে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনিকে তার বাবা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি-এমন দাবি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তাকে প্রকাশ্যে উপস্থিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে ইরানের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে সবচেয়ে আলোচিত অনুপস্থিত ব্যক্তিদের একজন ছিলেন মুজতাবা খামেনি। সেখানে দাবি করা হয়, তাকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা থাকায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাকে অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের শুরুতে সংঘটিত বিমান হামলায় মুজতাবা খামেনিও আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষ অংশ নেন। এ সময় ‘আমেরিকার মৃত্যু’, ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’—এ ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়।রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত ভিডিওতে ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো আলি খামেনির কফিনের ওপর তার কালো পাগড়ি রাখা দেখা যায়। একই মঞ্চে তার নিহত পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিনও রাখা হয়। কাবা শরিফের আদলে নির্মিত কালো রঙের বিশাল মঞ্চে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

মোসাল্লার বিশাল প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই শোকাহত মানুষের ঢল নামে। অনেকের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা ও আলি খামেনির প্রতিকৃতি। প্রচণ্ড গরমের কারণে উপস্থিত মানুষের স্বস্তির জন্য ভবনের ছাদ থেকে পানি ছিটানোর ব্যবস্থাও করা হয়। ঘোষণা অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত কফিন তেহরানে রাখা হবে। পরে তা কোম, ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে মাশহাদে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

এদিকে, শেষ বিদায়ের কর্মসূচিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা আপাতত স্থগিত রয়েছে। একই সময়ে উভয় পক্ষ থেকেই কড়া বক্তব্য এসেছে। ইরানের সামরিক নেতৃত্ব সতর্ক করে বলেছে, শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান চলাকালে কোনো ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সাম্প্রতিক সংঘাত ও ভবিষ্যৎ আলোচনার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন।

উল্লেখ্য, মুজতাবা খামেনির আহত হওয়া এবং নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে তাকে শেষ বিদায়ে অংশ নিতে না দেওয়ার দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। এ বিষয়ে ইরানের সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্যও দেয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *