প্রধান খবর

খামেনির দাফনের পরেই কূটনৈতিক গতি চায় যুক্তরাষ্ট্র

খামেনির দাফনের পরেই কূটনৈতিক গতি চায় যুক্তরাষ্ট্র-এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন-ইরান আলোচক অ্যালান আয়ার। তার মতে, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনা আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া উচিত। এতে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে বাস্তব অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যালান আয়ার বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে আরও ঘন ঘন বৈঠক এবং দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, খামেনির দাফনের পরেই কূটনৈতিক গতি চায় যুক্তরাষ্ট্র—এই অবস্থান বাস্তবায়িত হলে পারস্পরিক আস্থা বাড়বে এবং জটিল বিষয়গুলোতে সমঝোতার পথ আরও সহজ হবে।

আয়ার বলেন, দাফন অনুষ্ঠানের কারণে আলোচনা সাময়িকভাবে ধীর হতে পারে। তবে এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের উচিত কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো। তার ভাষায়, আলোচনার গতি ধরে রাখা না গেলে ইতোমধ্যে যে অগ্রগতি হয়েছে, সেটিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

সাবেক এই মার্কিন আলোচকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় এখনো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও চলাচল নিশ্চিত করা, এর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, লেবাননের পরিস্থিতি এবং ইরানের ভবিষ্যৎ পারমাণবিক কর্মসূচি। তিনি বলেন, পারমাণবিক ইস্যুই বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে রয়ে গেছে।

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, দাফন অনুষ্ঠান শেষে ওয়াশিংটন ও তেহরান নতুন উদ্যমে আলোচনায় ফিরবে এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে বাস্তবসম্মত সমাধানের চেষ্টা করবে। তার মতে, খামেনির দাফনের পরেই কূটনৈতিক গতি চায় যুক্তরাষ্ট্র—এই বার্তাটি শুধু দুই দেশের সম্পর্কের জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সংলাপের বিকল্প নেই। পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা—সবকিছুই এই আলোচনার সঙ্গে জড়িত। ফলে ভবিষ্যতের যেকোনো অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য পরবর্তী বৈঠকের দিকে নজর রাখছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, দাফন অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর দুই দেশ আলোচনার গতি বাড়াবে এবং দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধানের পথে এগিয়ে যাবে। খামেনির দাফনের পরেই কূটনৈতিক গতি চায় যুক্তরাষ্ট্র—এই বার্তাই এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *