বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের পরও আগামী অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারকে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যুতের ট্যারিফ বৃদ্ধি করা হলেও নিম্ন আয়ের মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ‘লাইফলাইন’ গ্রাহক এবং ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য নতুন মূল্য কার্যকর হবে না। তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ বিদ্যুৎ গ্রাহক এই সুবিধার আওতায় থাকবেন।
জ্বালানি মূল্য সমন্বয়ের বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিজেলের মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা রয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির কারণে পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি জানান, দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৮২ শতাংশই ডিজেল, যা পরিবহন ও কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয়। তাই ডিজেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সহায়ক হবে। বিপরীতে পেট্রোল ও অকটেনের ব্যবহার তুলনামূলক কম এবং মূলত ব্যক্তিগত যানবাহননির্ভর হওয়ায় এর মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না।
ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকার দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতে সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে আরও বেশি বরাদ্দ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

