প্রকৃতির রুদ্ররূপে বিপর্যস্ত ভারতের উত্তর প্রদেশ। গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত রাজ্যের ২৫টি জেলায় আঘাত হানা প্রবল বজ্রপাত, ঝড় ও ভারী বর্ষণে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১১১ জনে দাঁড়িয়েছে । প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭২ জন। উত্তর প্রদেশের ত্রাণ কমিশনারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
ত্রাণ কমিশনার ঋষিকেশ ভাস্কর যশোদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রয়াগরাজ জেলা। সেখানে বজ্রপাতে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মির্জাপুরে ১৯ জন, সন্ত রবিদাসনগরে ১৬ জন এবং ফতেহপুরে ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু মানুষের প্রাণহানিই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৭০টি গবাদিপশুর মৃত্যু এবং ২২৭টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিক বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে বেরেলি জেলার ভামোরা এলাকায় এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাবিয়ানা গ্রামের বাসিন্দা নানহে আনসারি ঝড়ের তীব্রতায় একটি টিনের চালসহ প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতায় উড়ে যান। পরবর্তীতে তিনি একটি ভুট্টাখেতে আছড়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাজ্যের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের (ডিএম) ব্যক্তিগতভাবে উদ্ধার অভিযান তদারকি করার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ত্রাণ কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল অ্যান্ড কমান্ড সেন্টার’-এর মাধ্যমে প্রতিটি জেলার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। কৃষি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর প্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আগামী আরও কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং বজ্রপাতের সময় খোলা আকাশের নিচে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

